রাজশাহী ব্যুরো
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের মরদেহের অপেক্ষায় দিন কাটছে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবারের। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। পরে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
বুধবার দুপুরে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণের সময় ট্যাংক ফায়ারিংয়ের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন এক কর্মকর্তা। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত তাসনিম রিফাতের বয়স ২৮ বছর। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। মৃত্যুর খবর বুধবার দুপুরেই পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এরপর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
রিফাতের বাবা আসাদুল হক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। ছেলের আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মস্থলে থাকার কারণে রিফাত নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সর্বশেষ কয়েক দিন আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল তাঁর।
প্রায় তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিফাতের মা। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি আবারও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বাবার ইচ্ছা, মায়ের কবরের পাশেই যেন ছেলেকে শেষবারের মতো শায়িত করা হয়।
রিফাত ছিলেন বিবাহিত। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী ও শিশুকন্যাও স্বজনদের কাছে গভীর শোকে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বাবাকে আর জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবে না ছোট্ট মেয়েটি।
সেনাবাহিনীর প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রথম জানাজা শেষে রিফাতের মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে আনার পর বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এরপর বিন্দারামপুর গ্রামে নেওয়া হবে মরদেহ। সেখানে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে তাঁকে।
রিফাতের মৃত্যুতে বিন্দারামপুর গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ইতিমধ্যে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন। পরিবারের অপেক্ষা এখন শুধু সেই শেষ বিদায়ের।
তথ্যসূত্র: সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রামের স্থানীয় সংবাদপ্রতিবেদন।
✍️ মন্তব্য লিখুন