নিজস্ব প্রতিবেদক
গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে ‘সাধারণ ক্ষমা’ করে দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বললেও গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের অবস্থান ছিল ভিন্ন।
সম্প্রতি ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম ‘বেইমানি’ করেছেন জামায়াতের আমির। তাঁর ভাষ্য, ডা. শফিকুর রহমান গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন।
তবে জামায়াতের আমিরের ২০২৪ সালের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল কিছুটা ভিন্ন। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি তা ‘সাধারণ ক্ষমা’ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি ভুক্তভোগী হিসেবে বিচার চাইলে তাকে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে।
জামায়াতের আমির তখন আরও বলেন, কোনো সংগঠনকে নির্মূল করা অন্য সংগঠনের কাজ নয়। কেউ অপরাধ করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উঠে আসে।
বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
ডা. শফিকুর রহমানের ওই বক্তব্যের পর থেকেই ‘সাধারণ ক্ষমা’ শব্দবন্ধটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত না করে ক্ষমার কথা বলা হলে তা জবাবদিহির প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারে।
অন্যদিকে জামায়াতের বক্তব্য ছিল—দল হিসেবে প্রতিশোধ না নিয়ে ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত বিচার নিশ্চিত করা উচিত। অর্থাৎ দলীয়ভাবে ক্ষমা করা এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার—দুই বিষয়কে তারা আলাদা হিসেবে দেখেছে।
রাশেদ খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য সেই পুরোনো ঘোষণাকেই রাজনৈতিক সমালোচনার কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপসের অভিযোগও তুলেছেন। তবে তাঁর এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের শাসনামলের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো দলের রাজনৈতিক বক্তব্যকে বিচারিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই অধিকতর গ্রহণযো
✍️ মন্তব্য লিখুন