আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশার খবর দেখে নিজের জমানো টাকা দান করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের ১০ বছরের এক শিশু। তার এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিশুটির নাম আলফাজ শেখ। সে উত্তর প্রদেশের কুশীনগর জেলার বেটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর ধরে নিজের পিগি ব্যাংকে টাকা জমাচ্ছিল সে। কিন্তু নেপালের বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাণহানির খবর দেখে সেই সঞ্চয় আর নিজের জন্য খরচ না করে বন্যার্তদের সহায়তায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউটিউবে বন্যার ছবি দেখে সিদ্ধান্ত
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আলফাজ ইউটিউবে নেপালের বন্যার ভয়াবহতার ভিডিও দেখেছিল। সেখানে মানুষের প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি হারানোর দৃশ্য তাকে নাড়া দেয়।
এরপর সে তার দাদাকে নিজের ইচ্ছার কথা জানায়। পরে পিগি ব্যাংকটি নিয়ে কুশীনগারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে যায় এবং নিজের জমানো অর্থ ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার কথা জানায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহেন্দ্র সিং তানওয়ারের কাছে সে পিগি ব্যাংকটি তুলে দেয়।
আলফাজের ভাষ্য, নেপালের বন্যায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তাদের জন্য নিজের সাধ্যমতো কিছু করতে চেয়েছে সে।
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পানির স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর প্রভাব পড়ে নেপালের বিভিন্ন পার্বত্য ও নদী তীরবর্তী এলাকায়। রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে ১ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নেপালের রসুয়া এলাকাকে দুর্যোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
শিশুর ছোট সঞ্চয়, বড় মানবিক বার্তা
আলফাজের কাছে পিগি ব্যাংকে জমা অর্থ হয়তো খুব বড় অঙ্কের নয়। কিন্তু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কার্যালয়ে পিগি ব্যাংক নিয়ে হাজির হওয়া এই শিশুর উদ্যোগকে অনেকেই মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই অন্য দেশের দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য সহমর্মিতা দেখিয়ে আলফাজ যেন মনে করিয়ে দিয়েছে—সহায়তার মূল্য শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, বরং সাহায্য করার মানসিকতায়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
✍️ মন্তব্য লিখুন