নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের বিদ্যমান বিধিবিধান পর্যালোচনা করে আরও সমন্বিত ও যুগোপযোগী কাঠামো তৈরির বিষয়ে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সভাপতি নির্বাচন বা মনোনয়নের পদ্ধতি এবং কমিটির কাঠামো—এসব বিষয় নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব পেতে পারে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমান বিধিমালায় বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ের গভর্নিং বডির সভাপতির ক্ষেত্রেও পৃথক শিক্ষাগত যোগ্যতার বিধান রয়েছে। তবে এসব যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হবে কি না, তা নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। আলোচনায় এমন একটি ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের পরিবর্তে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি নির্বাচনের সুযোগ রাখা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার বেসরকারি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং কলেজ পর্যায়ে গভর্নিং বডির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাজেট অনুমোদন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন তহবিল পরিচালনা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। কারণ একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল পরিচালনা কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সার্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের জন্য জারি করা বিধিমালায় একজন ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা এবং কমিটির সদস্যসংখ্যা ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছিল। নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও পুনর্বিবেচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নতুন নীতিমালার বিস্তারিত কাঠামো এবং তা কোন কোন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন