নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় যুক্ত হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা—সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক বিশেষ ভাতা। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বা নবম পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের সন্তানভাতা এবারই প্রথম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে প্রত্যেকের জন্য পৃথকভাবে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এত দিন সীমিতসংখ্যক বা নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা এ সুবিধা পেলেও নতুন বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গ্রেডভেদে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
তবে নতুন বিভিন্ন ভাতা, যার মধ্যে মোবাইল ভাতা ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাও রয়েছে, ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যয় বিবেচনায় নতুন এসব সুবিধা যুক্ত হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন ভাতাকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নোট: শিরোনামে ‘সন্তান ভাতা’ বলা হলেও অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি সব সন্তানের জন্য নয়; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা।
✍️ মন্তব্য লিখুন