শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
শেরপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সরকারি মোবাইল নম্বর প্রায় ২০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীর স্বজন ও তথ্যপ্রত্যাশীরা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে নম্বরটি বন্ধ পাচ্ছেন। ফলে অনেককে বিকল্পভাবে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট থেকে জরুরি বিভাগের সরকারি মোবাইল ফোনটি কার্যত অচল রয়েছে। ২২ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসলিম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মোবাইলের ব্যাটারির সমস্যার কথা জানান এবং দ্রুত সেটি সচল করার আশ্বাস দেন।
তবে এরপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ২৫ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ফোন করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য নিতে জরুরি বিভাগের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর এত দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে। সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকারিভাবে ফোন নম্বর রাখা হলেও সেটি অচল থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সেবাপ্রত্যাশী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, রোগীর খবর নেওয়া কিংবা জরুরি তথ্য সংগ্রহের জন্য হাসপাতালের সরকারি ফোন নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই নম্বরটিই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। প্রথমে মোবাইলের ব্যাটারির সমস্যার কথা বলা হলেও পরে সিমের সমস্যার কথাও জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিমের সমস্যা সমাধানে নতুন করে সিম প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের আরএমও ডা. তাসলিম আরিফ বলেন, প্রথমে ব্যাটারির সমস্যা ছিল, পরে সিমের সমস্যাও দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ফোনটি সচল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেছেন, সরকারি নম্বর বন্ধ থাকার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না জানিয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রি অনুযায়ী, শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি জেলা হাসপাতাল। সেখানে হাসপাতালের একাধিক সরকারি যোগাযোগের তথ্যও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবার সরকারি যোগাযোগ নম্বর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকারি জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় অচল না থাকে, সে জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন