জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়েছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার সকাল থেকে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনকারীরা রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলেও ব্যতিক্রমীভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণকাজের সময় প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর মাঠটি আবার খেলার উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মাঠ সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু মাঠ নয়, হলের বিভিন্ন অবকাঠামো নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। তাঁদের ভাষ্য, হলের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সংযোগ-সড়ক না থাকায় চলাচলে সমস্যা হয়। এ ছাড়া ভবনের ছাদ, কক্ষ ও নিরাপত্তাবেষ্টনীর সংস্কার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
চার দফা দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার ও ওয়াশরুমসংলগ্ন ১৯টি কক্ষে টাইলস স্থাপন, হলের মাঝামাঝি অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ, খেলার মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু এবং হলের চারপাশের কাঁটাতারের নিরাপত্তাবেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট এসব দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিল আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ। পরে প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
‘বারবার শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের অন্যান্য আবাসিক হলে খেলার মাঠ থাকলেও তাঁদের হলে সেটি নেই। মাঠ সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার টেন্ডার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেন, হল সংসন গঠনের আগ থেকেই এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছর ধরে লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রশাসনের কাছে দাবিগুলো জানানো হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিষয়গুলো বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলন ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন