নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের কাজ শেষ হওয়ার পর আবার প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে। তবে পুনরায় বদলি শুরু হলে বর্তমানে কার্যকর থাকা নীতিমালাই থাকবে, নাকি নতুন নীতিমালা করা হবে—সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষক যোগ দেবেন ১ অক্টোবর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫–এর শূন্য পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তাঁদের ১ অক্টোবর ২০২৬ নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের কথা রয়েছে। এরপর ৪ অক্টোবর তাঁদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।
নতুন শিক্ষকদের পদায়নের পর তাঁদের প্রশিক্ষণেও পাঠানো হবে। ফলে নতুন শিক্ষকরা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু রাখলে পদ শূন্যতা ও শিক্ষক বণ্টনে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এ কারণেই আপাতত বদলি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বদলি ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন পরিচালনায় জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করা হয়। জুনে চালু করা এই ব্যবস্থায় বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয় এসব কমিটিকে।
পরবর্তী সময়ে বদলি কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়। ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি বদলির ক্ষেত্রে কয়েকটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া আগস্টে সহকারী শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে আরও কিছু শর্ত কঠোর করা হয়। একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে পুনরায় বদলির জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্তের কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
কবে আবার বদলি শুরু হবে?
এ মুহূর্তে বদলি পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়ন শেষ হওয়ার পর বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন করে বদলি শুরু করার সময় কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হবে, সেটিও তখন নির্ধারণ করা হবে।
অর্থাৎ, আপাতত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের বদলি বন্ধ থাকছে। নতুন ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের পদায়ন শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য; প্রতিবেদন তৈরিতে প্রথম আলোর প্রতিবেদনসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র যাচাই করা হয়েছে।
চাইলে এ খবরের জন্য ও তৈরি করে দিতে পারি।প্রথম আলোর মতো নিউজ-কার্ড/ফেসবুক পোস্টের উপযোগী একটি ছবি
✍️ মন্তব্য লিখুন