নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁকে জাতীয় সংসদের কোনো কমিটিতে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরে বিরোধী দলের আপত্তির পর সংশ্লিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করে গাজী নজরুলের নাম বাদ দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দলটি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও দেয়।
তবে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো দল তার কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলে তাঁর সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে—এমন স্পষ্ট বিধান ওই অনুচ্ছেদে নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যও এমনই।
সংসদে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক
সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি গঠনের প্রস্তাবে গাজী নজরুল ইসলামের নাম ছিল। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নৈতিকতার দিক থেকে তাঁকে সংসদের কোনো কমিটিতে না রাখাই উত্তম।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজী নজরুলকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ওই কমিটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে কোনো না কোনো কমিটিতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের দেওয়া তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তাঁকে সেখানে রাখা হয়নি। অন্য দুটি সংসদীয় কমিটিতেও বিরোধী দলের আপত্তির কারণে তাঁকে রাখা হয়নি বলে জানান তিনি।
সদস্যপদ নিয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না। তবে গাজী নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। বিরোধী দল চাইলে এ বিষয়ে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেষ পর্যন্ত কমিটি থেকে বাদ
আলোচনা শেষে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কমিটি পুনর্গঠন করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকছে।
ফলে বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা হলেও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়টি এখন সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন