iকিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করতে কিশোরগঞ্জে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন এসব নির্দেশনা দেন। সভায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাওয়া, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালে অনেক কোচিং সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা ও শ্রেণিকেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো কোচিং সেন্টার চালানো যাবে না। সিদ্ধান্তটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর কথাও সভায় জানানো হয়।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্ক, গণিত ও ইংরেজি ক্লাব গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও আলোচনা হয়, নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে কার্যকর করার বিষয়ে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের বিধি ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ে কোচিং বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণে মনোযোগও বাড়বে।
সভায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন