আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং তাঁর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ভারতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। সম্মেলনে ব্রিকসের ১১ সদস্যদেশের পাশাপাশি ১০টি অংশীদার দেশের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি সফর করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ওপরও পড়তে পারে। প্রতিবেদনে এমনও বলা হয়েছে যে, তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে আগে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মেলনে নাও যেতে পারেন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দিল্লির সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়েছিল বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।
দিল্লির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথও জড়িত। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
ভারতীয় বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা বলছেন, কোনো দেশের ওপর বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠতা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
ব্রিকসে ভারতের অগ্রাধিকার
এবারের সম্মেলনে ভারত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠকও এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি হলে সেটি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারে।
সম্পর্কের নতুন বার্তা আসবে কি?
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে তা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান অস্বস্তি কাটিয়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সফর না হলে সেটিকে দুই দেশের সম্পর্কের বিদ্যমান টানাপোড়েনের আরেকটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হতে পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর বা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষের চূড়ান্ত অবস্থান ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমানে দিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে মূল প্রশ্ন—বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাবেন কি না।
নোট: ভারতের সরকারি অবস্থান ও বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে এই প্রতিবেদন আরও নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে হালনাগাদ করা যাবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন