বিনোদন প্রতিবেদক
ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভেনিসের পিয়াচ্ছা লে রোমা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তিনি অভিযোগটি করেন। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
বাঁধনের অভিযোগ, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানের সময় একদল বাংলাদেশি তাঁকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর মুঠোফোনও হাত থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, বাঁধন পুলিশের কাছে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতালির পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওতে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও পরে পুলিশের কাছেও দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় ইতালির পুলিশ এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনার পর বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইতালির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি তুলেছে এবং বাঁধনকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বাঁধন বর্তমানে Venice International Film Festival-এ অংশ নিতে ইতালিতে অবস্থান করছেন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড–এর অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে তিনি উৎসবে গেছেন।
ঘটনার পর চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও বাঁধনের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতালির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে বাঁধনের অভিযোগে শারীরিক হামলা ও হেনস্তার বিষয়টি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে এসেছে; যৌন হয়রানির অভিযোগটি ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না দেখিয়ে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বাঁধনকে আবার ইতালিতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।
✍️ মন্তব্য লিখুন