ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন। এ নিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু হামের উপসর্গ দেখা দিলেই মৃত্যুকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধরা হচ্ছে না। আক্রান্তদের মধ্যে যাদের হামের উপসর্গ রয়েছে, তাদের তথ্যও নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবে ‘হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু’ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে টিকাবিহীন বা অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর আকার নিতে পারে। জ্বর, কাশি, সর্দি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—হামের সাধারণ উপসর্গ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর ভিড় এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপের কথাও উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
সরকারও হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে হামের দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। এতে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
✍️ মন্তব্য লিখুন