নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে চলতি বছর এ রোগে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালেও নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সময়গুলোর একটি ছিল জুলাই ও আগস্ট। শুধু আগস্ট মাসেই ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনেই নতুন পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—দুই পর্যায়েই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ না করলে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীরে ব্যথা, বমি, দুর্বলতা বা অন্যান্য জটিল উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন