রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সইপাড়া থেকে গোল্লাপাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর মধ্যে নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এক সাংবাদিককে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও স্থানীয় এলজিইডির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সইপাড়া থেকে গোল্লাপাড়া পর্যন্ত প্রায় **৬ হাজার ৮৫০ মিটার** সড়ক পাকাকরণের কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর। তবে প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি কম। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ইটের খোয়ার পরিবর্তে ইট-পাথরের গুঁড়া ও নির্মাণবর্জ্য দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হলে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও টেকসই সড়ক পাওয়ার সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন এলাকাবাসী।
### ‘দাম বেশি’ বলছেন ঠিকাদারের ম্যানেজার
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্যের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভালো মানের উপকরণ ব্যবহারের চেষ্টা করার কথা জানান তিনি।
পরে ঠিকাদার মামুনের বক্তব্য জানতে তাঁর রাজশাহীর ভেরিপাড়া মোড়ের কার্যালয়ে যান এক সাংবাদিক। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বক্তব্য নেওয়ার পর প্রতিবেদক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সংবাদটি প্রকাশ না করার বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
### প্রকৌশলীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী **রিপন আলী সরকারের** সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে ঠিকাদার টাকা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য হিসেবে সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়েছে, **‘মামুন ভাই টাকা দেয়নি? আমি তো বলে দিছিলাম টাকা দেওয়ার জন্য।’**
এরপর ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি মোহনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে সেখানে ডাকেন বলে অভিযোগ। এ সময় সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে *ইত্তেফাক*-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সাফিনা মোস্তারি শামস বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
### তদন্তের দাবি
সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন সড়ক প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিককে অর্থ দেওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত চান তাঁরা।
সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান ঠিক আছে কি না—এসব বিষয় সরেজমিন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছেন স্থানীয়রা।
✍️ মন্তব্য লিখুন