নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে কয়েক ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে।
সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সুপারিশ
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বলে সম্প্রতি প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এটি এখনো চূড়ান্ত বেতন তালিকা নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের পরই কোন গ্রেডে কত মূল বেতন এবং কোন হারে ভাতা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
সরকারের বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাবে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে কার্যকর করা এবং পরবর্তী সময়ে বাকি অংশ ও বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ ও সরকারের রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দুই অর্থবছরে কয়েক ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
এর ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হলেও এর পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে হাতে পাওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত সম্ভাব্য বেতন তালিকায় অঙ্কের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেতন তালিকাকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ সময় পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
এরপর পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ শুরু করে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষা করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
তবে মনে রাখতে হবে, নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন ও ভাতার কাঠামো এখনো সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রকাশিত বিভিন্ন বেতন তালিকা ও বৃদ্ধির হারকে সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবে দেখা উচিত।
✍️ মন্তব্য লিখুন