নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় যারা এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে এসব শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ নীতি তৈরি করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর তারা যেন পড়াশোনা বা কর্মজীবন থেকে পুরোপুরি ছিটকে না পড়ে।
কারিগরি প্রশিক্ষণে যুক্ত করার পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থীকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মমুখী দক্ষতা তৈরি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে এর অন্যতম লক্ষ্য।
এর পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী ব্যবসা বা নিজস্ব উদ্যোগে আগ্রহী, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তবে এই সহায়তার পরিমাণ, কারা পাবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ বছর ফেল প্রায় ৭ লাখ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
এবারের ফলাফলে পাসের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পাসের হার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু পরীক্ষার ফল নয়, বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগ
সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়াকে একজন তরুণের ভবিষ্যতের শেষ ধাপ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বিশেষ নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, সাধারণ শিক্ষাধারায় কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পথ থাকা প্রয়োজন। এবারের বিপুলসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর প্রেক্ষাপটে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ঝরে পড়া কমানো এবং তরুণদের কর্মমুখী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ, ব্যবসায়িক পরামর্শ, তদারকি ও জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শুধু অর্থ সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন