নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক প্রবাসীর ভাইয়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাতে ও রোববার সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
### ২০০ গ্রাম স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৬। এজাহারে বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে এক নম্বর, ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে দুই নম্বর, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্তকে তিন নম্বর এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও ব্যবহারের জন্য তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। গত ২৮ আগস্ট রাতে বাদী বিমানবন্দর থেকে ওই স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করে একটি ভাড়া করা হায়েস গাড়িতে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু রোহান চৌধুরী।
এজাহার অনুযায়ী, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এরপর আসামিরা তাঁদের মারধর করেন এবং একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
### ভিডিও ধারণের কথাও এজাহারে
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। একজন পথচারী তাঁদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন এবং আরেকজন কৌশলে নিজের মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে আরও লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ঘটনা ও অভিযুক্তদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন