নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
হেমন্তের শেষভাগে শীতের আগমনী বার্তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে। দিনের বেলায় ঝলমলে রোদে গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর বাড়ছে শীতের অনুভূতি। রাত ও ভোরে ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে কোথাও কোথাও দেখা মিলছে কুয়াশার। এরই মধ্যে জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা
স্থানীয় আবহাওয়ার চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দিনের তাপমাত্রা ও রাতের অনুভূতিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। সকালে সূর্য ওঠার পর রোদের তীব্রতায় শীতের অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে শীতের তীব্রতা, যা ভোর পর্যন্ত অনুভূত হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দিনের বেলায় গরম এবং রাতে ঠান্ডা—এমন বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তাপমাত্রা কমার কারণ কী?
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। রাতে ও ভোরে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হলেও দিনের রোদ পরিস্থিতিকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরবর্তী কয়েক দিনে তা কমে ১৫ ডিগ্রির ঘরে নেমে এসেছে। এতে জেলাটিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত কমার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
সামনে আরও বাড়তে পারে শীত
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে বৃষ্টির প্রভাব কেটে গেলে পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। তবে তাপমাত্রা কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড়ে সাধারণত দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শীতের প্রভাব আগে অনুভূত হয়। এবারও অক্টোবরের শেষদিকে তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ভোরে কৃষিকাজ, যানবাহন চালানো ও অন্যান্য কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য ঠান্ডা বাতাস বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।
দিনের ঝলমলে রোদ আপাতত শীতের তীব্রতা আড়াল করলেও সন্ধ্যা ও ভোরের আবহাওয়া জানিয়ে দিচ্ছে, উত্তরের জনপদে শীতের আগমন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন