বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির টাকা থেকে ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণের বাকি অংশ বা এর সম্পূর্ণ মূল্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক তিনটি স্থান থেকে এসব টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাস থামিয়ে স্বর্ণ ছিনতাই
পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর বগুড়া শহরের গোলপট্টির স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পী হোসেন ১০টি স্বর্ণের বার নিয়ে জয়পুরহাটের উদ্দেশে বাসে রওনা হন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে বাসটি শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা–জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান।
এরপর বাপ্পী হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১০টি স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে শিবগঞ্জের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জায়গায় আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।
ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।
তিন স্থান থেকে উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা
মামলার তদন্তে নেমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর ও জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকার পৃথক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা টাকার মধ্যে একজনের কাছ থেকে ২৯ লাখ, আরেকজনের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ এবং অন্য একজনের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা।
বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা ও ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন