ঢাকা | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
দেশের কোনো কোনো আদালতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
সকাল ১১টায় এসে দুপুরেই আদালত ছাড়ার অভিযোগ
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো আদালতে বিচারকেরা বেলা ১১টার দিকে আসেন এবং দুপুর দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক কার্যক্রমে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে।
বিচারাধীন ৪৬ লাখের বেশি মামলা
আইনমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা বড় চ্যালেঞ্জ। এতে বিচারকদের ওপর অনেক সময় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে এই চাপ বেশি।
মামলাজট কমাতে বেশি মামলাপ্রবণ জেলাগুলোতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্রিয় বিচারকদের পদায়নের বিষয়েও ভাবছে সরকার বলে জানান তিনি।
বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার
বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ই-বেইল বন্ড চালুর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে পরিবহন, নিরাপত্তা ও জনবলের প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে কিছু আসামির ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল হাজিরা চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলাজট কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ
বিচারাধীন মামলার চাপ কমাতে মামলার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম ৩০টি জেলায় চালু হয়েছে এবং এ কার্যক্রমে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি বলে তিনি জানিয়েছেন।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যকর করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
ন্যায়বিচারকে মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন