নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশযাত্রার সময় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আহমেদ রেজা হাসান মাহদী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে আবুধাবি হয়ে জ্যামাইকা যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গেলে তাঁর পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের সময় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাঁকে ইমিগ্রেশন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
শুক্রবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, মাহদীকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
কেন বিদেশযাত্রায় বাধা
ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহদীর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি দায়ের করা মামলাটি জিআর-১/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৮৬, ১৮৯ ও ৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁকে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে ইমিগ্রেশন পুলিশের বক্তব্য। ফলে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনাটিকে গ্রেপ্তার হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না।
থানায় দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসেন মাহদী। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় মাহদীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়েছিলেন আটক এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাজে বাধা, হুমকি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
৩ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন আদালতে হাজির করার পর তিনি জামিন পান। পরে মাহদী দাবি করেন, থানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আলোচনার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মুখ থেকে ওই বক্তব্য বেরিয়ে এসেছিল।
এর আগেও আটক হয়েছিলেন
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল মাহদীকে। সে সময়ের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ছাড়া আগস্টে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অভিভাবকদের মুচলেকায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন