পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লায় বসবাস করতেন তিনি।
অটোরিকশার সূত্র ধরে অভিযুক্ত শনাক্ত
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ওই অটোরিকশার চালক সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং ঘটনার পেছনের কারণ কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাজমিন তাঁর বাবার মুঠোফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও নিহতের মুঠোফোন উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করার বিষয়গুলো এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
✍️ মন্তব্য লিখুন