চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথি পরীক্ষা করে এসব অভিযোগের সূত্র পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রশ্নফাঁসের তদন্তে সামনে আসে আরও অভিযোগ
গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে।
তদন্তের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ওই কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথি পর্যালোচনার সময় নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে কর্মী নিয়োগের সঙ্গে শাহজামালের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার অপারেটর পদে বেতন তোলার অভিযোগও উঠেছে।
তবে কতজনকে কথিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এসব ঘটনায় আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং কোন কোন নথিতে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত চলমান, নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। পরে শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিস্তারিত যাচাইয়ের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য দেওয়া যাবে। আপাতত অভিযুক্ত থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন