আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। এবার এক রয়টার্স সাংবাদিকের শারীরিক গঠন ও চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁকে বলেছেন, ‘আপনাকে দেখতে জঘন্য।’ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সূচি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন থেকে। সম্প্রতি টানা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর কানসাসে একটি নির্ধারিত সমাবেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা বা ক্লান্তি কাজ করেছে কি না, তা জানতে চান রয়টার্সের সাংবাদিক জ্যাকব বোগাজ।
প্রথমে ট্রাম্প নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো বলে দাবি করেন। তবে সাংবাদিক আবারও জানতে চান, ভ্রমণ ও প্রচারণার ক্লান্তির কারণেই কি তিনি কানসাস সফর বাতিল করেছেন। এ প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকের দিকে পাল্টা আক্রমণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। রয়টার্সও একটি বাজে সংবাদমাধ্যম।’ এরপর সাংবাদিকের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘লোকটিকে দেখুন, তিনি শারীরিকভাবে কতটা অযোগ্য। নিজের শরীরের যত্ন নিন। আপনাকে দেখতে খুব খারাপ লাগছে।’
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভালো। কানসাসে না যাওয়ার কারণ অসুস্থতা নয়; বরং সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাই সরাসরি উপস্থিত না হয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে ট্রাম্প ২০টির বেশি ভার্চ্যুয়াল নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। কানসাস সফর বাতিলের পর শুক্রবার ফ্লোরিডায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন বিরূপ আচরণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রশাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সিবিএস নিউজের সাংবাদিক ন্যান্সি কর্ডেসকে ‘বোকা’ এবং নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক কেটি রজার্সকে ‘কুৎসিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন