নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু কারাগারে গেছেন। তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে মিন্টুকে বড়াইগ্রাম আমলি আদালতে হাজির করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে বিচারক তৌহিদুল ইসলাম সুমন রিমান্ড আবেদনের শুনানি না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানির জন্য কোনো তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিন্টু রিমান্ডে থাকাকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ভোরে আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান নামে আরও দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
যেভাবে হামলার শিকার হন শাকিল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী ও ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এদিকে মিন্টুকে যুবদলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ। শাকিল হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, হামলার পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছিল এবং এর পেছনে অন্য কেউ রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে মামলার বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
✍️ মন্তব্য লিখুন