কুমিল্লা প্রতিনিধি
সরকারি কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করতে আগে অনুমতি নিতে হবে, বাইরে জুতা খুলে রাখতে হবে—এমন প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। তাঁর কার্যালয়ের দরজায় টাঙানো হয়েছে একটি বার্তা—‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় এ বার্তা দেখা যায়। পরে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কার্যালয়ের প্রবেশপথে নামফলকের পাশে টাঙানো বার্তায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের জন্য আলাদা অনুমতি নেওয়া কিংবা জুতা খুলে রাখার প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই সরাসরি তাঁর কাছে নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি জানান, সরকারি দপ্তর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো দ্বিধা বা সংকোচ ছাড়াই তাঁদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ না পেয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দালালের দ্বারস্থ হন। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনওর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলে সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবেন। এতে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি দপ্তর মূলত জনগণের সেবার জায়গা। সেখানে নাগরিকের সহজ প্রবেশাধিকার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রশাসনিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বরুড়ার ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় টাঙানো ছোট্ট এই বার্তা তাই কেবল একটি নির্দেশনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনকে আরও সহজলভ্য করে তোলার একটি উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন