পটুয়াখালী প্রতিনিধি
একজন শিক্ষককে কেন্দ্র করেই চলছে কলেজের কার্যক্রম। শিক্ষার্থীও মাত্র একজন। কিন্তু সেই একমাত্র শিক্ষার্থীও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুরের সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এমন চিত্র স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেন একমাত্র পরীক্ষার্থী আফরিন আক্তার। তবে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় পাস করতে পারেননি তিনি। এর আগেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। ফলে চলতি বছরও প্রতিষ্ঠানটির পাসের খাতা শূন্য রয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালে। তবে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান ও পর্যাপ্ত শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্তও হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব জানিয়েছেন, তিনি ছাড়া সেখানে আর কোনো শিক্ষক নেই। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত নেই বললেই চলে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও বর্তমানে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার একজন শিক্ষার্থীই নিবন্ধন করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। আগের পরীক্ষাতেও ওই শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসবের ঘাটতি থাকলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে শুধু সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ নয়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন একাধিক কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পাস করা ১১টি কলেজে মোট ৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে চলা একটি কলেজের এমন চিত্র শুধু পরীক্ষার ফলাফলের বিষয় নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদান এবং সার্বিক তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
✍️ মন্তব্য লিখুন