
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত বিরোধ, নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাজ্যটিতে নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মণিপুরের চলমান পরিস্থিতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, চলাচল এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুই জেলায় পৃথক ঘটনায় প্রাণহানি
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) মণিপুরের নোনেই জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি জনগোষ্ঠীর তিনজন পুরুষ নিহত হন। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে, কয়েক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া একই জনগোষ্ঠীর আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কাংপোকপি জেলায় উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশির পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। ফলে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
কুকি সংগঠনের অভিযোগ, উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
কুকি জনগোষ্ঠীর একটি শীর্ষস্থানীয় সংগঠন হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নিজ জনগোষ্ঠীর আবাসভূমিতে এ ধরনের হামলা বিনা উসকানিতে চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং পুলিশের চূড়ান্ত তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের করা যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কুকি-নাগা বিরোধের পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ
মণিপুরে কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভূমির মালিকানা, নিজস্ব আবাসভূমির দাবি এবং জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক নাগা ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
এরপর মে মাসে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন ধর্মযাজক নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হলেও বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে অপহরণ ও পাল্টা হত্যার ঘটনা ঘটে।
২০২৩ সাল থেকেই অস্থির মণিপুর
মণিপুরে চলমান অস্থিরতার আরেকটি বড় কারণ কুকি ও মেইতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাত। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। তাঁদের অনেকেই এখনো অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন।
নতুন করে কুকি-নাগা সংঘাত শুরু হওয়ায় রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের জাতিগত বিরোধ নিরসন, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন মণিপুরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
✍️ মন্তব্য লিখুন