কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রকৌশল অনুষদের অধীনে নতুন দুটি বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগ দুটি চালুর বিষয়ে প্রাথমিক অনুমোদনের মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসব বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
নতুন বিভাগ দুটি হলো—আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এ ছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে নতুন করে ১৮টি বিভাগ অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউজিসির কাছে আবেদন করে কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর ইউজিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন চারটি বিভাগ চালুর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রোবোটিক্স।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম দুটি বিভাগ চালুর বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে মৌখিক আশ্বাস পাওয়া গেছে। বাকি বিভাগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগ চালুর জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে দুটি বিভাগ চালুর অনুমোদন আসতে পারে। দ্রুতই চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনও দুটি বিভাগ চালুর বিষয়ে ইউজিসির মৌখিক আশ্বাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতে পারে। একই শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন ক্যাম্পাসে প্রকৌশল অনুষদের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের একাডেমিক যাত্রাও শুরু হতে পারে।
নতুন দুটি বিভাগ চালু হলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষার পরিধি বাড়বে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশলের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে বিভাগ চালুর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষক, গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শিক্ষা অবকাঠামো নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
✍️ মন্তব্য লিখুন