নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনে শিক্ষকদের পাঠদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষকরা প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এ পেশায় আসেন। তবে নানা কারণে অনেক সময় তাঁরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ জন্য শিক্ষকদের পেশাগত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের তাগিদ
ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জন করতে না পারলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ের হলেও শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করলেই হবে না; শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীরা কতটা শিখতে পারছে, তা-ও মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হলে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
ডিজিটাল যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা বর্তমানে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, শেখার আগ্রহ ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে প্রয়োজন পরিকল্পনা
শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, সময়ের সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই শিক্ষাক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা জরুরি।
তবে এ পরিবর্তন গবেষণা, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সময় না দিয়ে হঠাৎ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাফল্য অর্জনের অনেক পথ খোলা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়।
✍️ মন্তব্য লিখুন