গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় নিহত গাইবান্ধার তৌফিক হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও অনিশ্চয়তা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। এমন পরিস্থিতিতে নিহত তৌফিকের স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ।
তৌফিক হোসেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর মারা যান তিনি।
কারখানাটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মিন্টু কুমার সাহা জানান, তৌফিকের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁদের স্বচ্ছল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী তৌফিকের সব পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। তাঁর কর্মস্থল লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের কাটিং বিভাগে তিনি কর্মরত ছিলেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর দুপুরে কারখানায় কাজ চলাকালে বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। পরে সন্ধ্যায় তারা জানতে পারে, কারখানা থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে তৌফিক আহত হয়েছেন।
তৌফিকের মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী সেতু মনি ও ১১ মাস বয়সী সন্তান সিয়াম চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানকে নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেতু মনি। তাঁদের নিজস্ব কোনো বসতভিটাও নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে নিহতের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ৪ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে এ অর্থ তুলে দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে অসহায় স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুত সহযোগিতা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
সম্পাদনা ও তথ্য যাচাইয়ের নোট: কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবারকে স্বচ্ছল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্ত্রী-সন্তানের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন