আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর ভেনেজুয়েলায় আগামী ২০২৭ সালে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই হবে আদর্শ পরিস্থিতি। তবে নির্বাচনের আগে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের আগে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় নির্বাচন পরিষদ পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরিবর্তন ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন কঠিন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২ নভেম্বর ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অলিভার ব্লাঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কো রুবিও। বৈঠকে দেশটির রাজনৈতিক উত্তরণ, নির্বাচন প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে একটি সংস্কার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল।
এদিকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও আগামী বছর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। গত ২৯ অক্টোবর কারাকাসে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নির্বাচনী পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। তাঁর মতে, দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন। এরপর দেশটির তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে; তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির বিচার বিভাগ ও নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করছে। ফলে ২০২৭ সালে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন