কুমিল্লা প্রতিনিধি
‘প্রতিদিন কত আপনজন ও পরিচিতজনের মৃত্যুর সংবাদ পাই, আমি যে কখন মরি।’ মৃত্যুর অনিশ্চয়তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল। স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র একদিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। কুমিল্লার বুড়িচং থেকে কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তাঁদের বহনকারী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ইসরাফিলসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার আধাঁর মার দরগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক রূপসী বাংলা পত্রিকার ব্যবস্থাপক ছিলেন। তিনি বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষিকা নাদিরা আফরোজের স্বামী। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি সোহানা আফরোজ একই মাদ্রাসার শিক্ষিকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একটি দল কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণের উদ্দেশে তিশা পরিবহনের বাসে করে রওনা হয়েছিলেন। পথে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা হতাহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কেরানীহাটের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আফসার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষাসফর আয়োজনের আগে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় কর্মসূচির দিন শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হলেও এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।
বুড়িচংয়ের ইউএনও তানভীর হোসেনও জানান, শিক্ষাসফরের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
একটি আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মৃত্যুর এক দিন আগে ইসরাফিলের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন