নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
ডিসেম্বরে দেশে কারও আসার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি।’ একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত আছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রস্তুত ছিলেন, এবারও সেভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে দেখানো উদারতার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আগেরবার তাঁরা অনেক উদারতা দেখিয়েছিলেন এবং ক্ষমা করার মনোভাব পোষণ করেছিলেন। এমনকি প্রতিপক্ষের প্রতিও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গত দুই বছরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যার বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে উল্লেখ করেন নাহিদ।
বিচারহীনতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার না পেলে নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে। ডিসেম্বরকে প্রতিরোধ ও বিজয়ের মাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করেছে, ২০২৪ সালেও ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছে। ২০২৬ সালেও বিজয় অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের জায়গা নয়; দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে বরণ করাই ছাত্রসংগঠনগুলোর একমাত্র কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন