নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও রাজপথের শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীতে বিএনপির আয়োজিত সার্বভৌমত্ব র্যালিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে অংশ নেন তিনি। ২০০৫ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পর এবারই দীর্ঘ বিরতি শেষে তাঁকে আবার রাজপথের শোভাযাত্রায় দেখা গেল।
শনিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এর আগে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। পরে তিনি র্যালির সামনের সারিতে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করেন।
র্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের সড়ক, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সেখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।
২০০৫ সালের পর আবার রাজপথে
বিএনপির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ওই শোভাযাত্রায় দলের তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমা ও প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন তারেক রহমান।
২১ বছর আগের সেই শোভাযাত্রায় তিনি ছিলেন বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। আর এবার রাজপথে ফিরলেন দলটির চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বের এই পরিবর্তনের কারণে এবারের শোভাযাত্রায় তাঁর অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সমাবেশে ঐক্যের আহ্বান
র্যালির আগে নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে থেকে আসা যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।
র্যালিতে মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের অংশগ্রহণ
র্যালিতে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আমানউল্লাহ আমান, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা র্যালিতে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। বিভিন্ন স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ।
২০০৫ সালের শোভাযাত্রা থেকে ২০২৬ সালের সার্বভৌমত্ব র্যালি—দুই দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানে এসেছে বড় পরিবর্তন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা থেকে দলীয় চেয়ারম্যান এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই রাজপথে অংশগ্রহণ এবারের ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন