আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে পরমজিৎ ধনখড় (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সেক্টর ২১সি এলাকার একটি আবাসিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে বসবাস করতেন। ভাতিজার বিয়েতে যোগ দিতে মাত্র দুই দিন আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আটটার দিকে জিম থেকে বাসায় ফিরছিলেন পরমজিৎ। এ সময় তিনি দেখতে পান, তাঁর পরিবারের জন্য নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গায় প্রতিবেশী মোহন ওরফে মনু শর্মার গাড়ি রাখা হয়েছে। গাড়িটি সরিয়ে নিতে বললে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মনু শর্মা নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পরমজিৎকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ সময় প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে আট থেকে নয়টি গুলি পরমজিতের শরীরে লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর পাশাপাশি অভিযুক্তের পোষা কুকুরকে আবাসিক ভবনের সাধারণ পার্কিং এলাকায় মলত্যাগ করানো নিয়েও দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিবাদ হয়েছে। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগেও এ নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যান। নিহতের ছেলে শৌর্য ধনখড় পুলিশকে খবর দেন। পরে স্থানীয় পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শৌর্যের অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ফরিদাবাদ পুলিশ অভিযুক্ত মনু শর্মাকে বল্লভগড়ের ডিএলএফ চৌকের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরমজিৎ ধনখড়ের বাড়ি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের হিসার জেলায়। তিনি আগে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবসাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এফপিটি সফটওয়্যারে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভাতিজার বিয়েতে অংশ নিতে ৫ নভেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর থেকে ভারতে ফিরেছিলেন। আগামী ২৪ নভেম্বর ওই বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পারিবারিক আনন্দঘন আয়োজনের আগেই প্রতিবেশীর সঙ্গে সামান্য পার্কিং বিরোধের জেরে প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে।
✍️ মন্তব্য লিখুন