ইয়ানূর রহমান : গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও আংটি ছিনিয়ে নিতেই দুর্বৃত্তরা রঞ্জনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ি অন্তত ১০-১৫ কিলোমিটার এবং মণিরামপুরের পাড়িয়ালি গ্রামে অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়ি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে।
শনিবার সকালে যশোরের মণিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে রঞ্জন মন্ডল (৬৫) নামে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে মণিরামপুর-কুলটিয়া সড়কের হেলারঘাট এলাকায় জেলেরা মাছ ধরতে গেলে নদীর পাটায় আটকে থাকা একটি বস্তা দেখতে পান। পরে বস্তাটি পাড়ে এনে ভেতরে লাশ দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।
নিহত রঞ্জন মন্ডল কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের মৃত হরিপদ মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মরদেহের গলায় আঘাতের দাগ রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলা হয়েছে।
নিহত রঞ্জনের শ্যালক নারায়ণচন্দ্র জানান, তার বোন দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। রঞ্জন মাছ ধরার সরঞ্জাম (ঘুনি ও চারো) তৈরি করে সংসার চালাতেন। তাদের একমাত্র ছেলে ভারতে থাকেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় কাটাখালী বাজারে ওষুধ কিনতে গিয়ে রঞ্জন আর বাড়ি ফেরেননি। রাত থেকে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, তার কোনো শত্রু ছিল না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার গলায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং হাতে সোনার আংটি ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় শুধু রুপার আংটিটি পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, সোনার চেইন ও আংটি ছিনিয়ে নিতেই ছিনতাইকারীরা তাকে হত্যা করেছে বলে নারায়ণের ধারণা।
মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। স্বর্ণ ছিনতাইয়ের বিষয়টি স্বজনেরা দাবি করছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।#

✍️ মন্তব্য লিখুন