ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব এবং বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঢাকা-আগরতলা সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে রেললাইন ও সড়কে অবস্থান নেন। তাঁরা রেললাইনে স্লিপার ফেলে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুই রেলপথে চলাচলকারী একাধিক আন্তনগর ট্রেনের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।
এ সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
এর মধ্যে বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়া বরিশল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ উদ্যোগের প্রতিবাদেই তাঁরা নতুন করে আন্দোলনে নেমেছেন।
বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রুস্তুম মিয়া বলেন, সদর উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তাঁরা আগের মতো সদর উপজেলার সঙ্গেই থাকতে চান। নতুন কোনো ইউনিয়ন বা প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।
বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
আটকে পড়েছে আন্তনগর ট্রেন
অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আটকে রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারগামী বিরতিহীন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও নিরাপত্তার কারণে সেখানে অবস্থান করবে।
অন্যদিকে, আখাউড়া বাইপাস স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. তাহুরুল ইসলাম রেললাইনে স্লিপার ফেলে অবরোধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলে জানান।
ঘটনাস্থলে পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। জানমালের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ঘটনায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন