নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর ভাষ্য, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যমূল্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটে চা-শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করায় বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে যাতে অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয়, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যমূল্যে পড়তে পারে। এ জন্য এসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক গ্যাস সরবরাহের সংকটও কেটে গেছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়।
এর আগে সোমবার সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর নজরদারি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার কথাও জানানো হয়।
তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গতকালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন