সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হাত ও মুখে কসটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় আরজান মিয়া নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে একটি ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আরজান মিয়া হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেনীপাড়া এলাকায় পাওয়া গেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাসিরনগর সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে একটি ঝোপের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলটি ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার থেকে আরজান নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার সকালে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি লাখাই থানায় জানানো হয়। পরে নাসিরনগরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আরজানের বলে শনাক্ত করেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, নিহতের হাত ও মুখ কসটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আরজানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন