গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই মাস পর ১৩ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগে তার বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যান তার বাবা হামিদুল ইসলাম। এরপর তিনি আর শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরেননি। পরে শিশুটির মা রুমানা আক্তারকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় একপর্যায়ে হামিদুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সন্তানকে ফিরে পেতে রুমানা আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রোববার গাইবান্ধা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। প্রথমে সাদুল্লাপুর এলাকা থেকে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকা থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে শিশুটিকে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, আসামিরা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করায় তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। পরে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হবে।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন