নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই জাদুঘরটি পরিদর্শন করে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
গণভবনে স্থাপিত এই জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছে। শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন, পোশাক, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডও জাদুঘরে স্থান পেয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।
জাদুঘর পরিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে এই জাদুঘর পরিদর্শন করা দরকার। তাঁর মতে, সেখানে কিছু সময় কাটালে মানুষ গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ভয়াবহতার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে। জাদুঘরে আয়নাঘরের আদলে তৈরি অংশও রাখা হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা বন্দীদের অভিজ্ঞতার ভয়াবহতা উপলব্ধি করার সুযোগ পাবেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে এর আগে জানানো হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে ইতিহাসের সঙ্গে তাদের সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দলগতভাবে জাদুঘর পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কেবল একটি প্রদর্শনকেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং সাম্প্রতিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন