সিনিয়র রিপোর্টার
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখায় মাদক ধ্বংসের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যের নাম মো. রেজাউল করিম (৪৫)। তিনি সিএমএম আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখার কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিরিয়ানি দোকানে অভিযান চালায় সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি বিশেষ দল। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে রেজাউল করিমকে আটক করা হয়।
পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে পরনের প্যান্টের পকেট থেকে ১৭৯ গ্রাম ওজনের ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ভিভো স্মার্টফোনও জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিএমপির এক পরিদর্শক বাদী হয়ে সোমবার সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কুমার চ্যাটার্জি আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রেজাউল করিমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে রেজাউল করিম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া যায়নি; তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ইয়াবাগুলো তাঁর পায়ের কাছে পড়ে ছিল। তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়, তা পরবর্তী সময়ে জানা যাবে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের দায়িত্বের মধ্যে আদালতে থাকা মাদকদ্রব্যের আলামত নিষ্পত্তি ও ধ্বংসের বিষয়টি ছিল। মামলার তদন্তে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন