নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন কর্মকর্তার যোগদানকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ঢামেক হাসপাতালে বদলি করা হয়। আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে বদলি আদেশের পর মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগ দিতে এলেও তাঁর যোগদানের কাগজ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রেজাউল ইসলামও ঢামেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে বিরোধ চলছিল।
রেজাউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। অন্যদিকে মোজাম্মেল হকের দাবি, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক তাঁর যোগদানের কাগজ গ্রহণ করেননি। পরিচালক তাঁকে জানিয়েছিলেন, রেজাউল ইসলামকে ঢামেকে রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং সেখানকার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ
বদলি নিয়ে বিরোধের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় একজন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে তালা দেওয়ার উদ্যোগের সময় তালা দিতে সহযোগিতা না করায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. হানিফ ভূঁইয়াকে মারধর করা হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে কর্মচারীদের একটি অংশ পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, হানিফকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ঘটনায় কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিচালকের পদত্যাগ দাবি
অন্যদিকে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক বদলি ও যোগদানের বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয়। অন্যদিকে কর্মচারীদের অবস্থান ছিল মূলত সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগের বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে।
প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালককে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।
তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মূল উত্তেজনা ছিল প্রশাসনিক ব্লক ও পরিচালকের কার্যালয়কে ঘিরে।
বদলি আদেশ বাস্তবায়ন, নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগদান, কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এবং পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ঢামেকে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে এই মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন