নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হামলার কারণ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্টুডিও থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাব, টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়।
সালমান মুক্তাদির ভিডিওতে বলেন, হামলায় তাঁদের পুরো স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের ফুটেজ ও শুটিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ ছিল বলেও তিনি জানান। এতে তাঁর কাজের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানান এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে হামলার কারণ হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল না।
পুলিশের ভাষ্য, দুই পক্ষের জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে এবং এর সময় স্টুডিওটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের—এ বিষয়টি জানত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এলাকায় আসে বলে নিউ গিনি প্রপার্টিজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং গুলি করতে করতে তাঁরা হাউজিং এলাকায় প্রবেশ করেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। পরে স্টুডিওসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে এলাকা ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার মামুন, মজুমদারের মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লুটপাটের অভিযোগসহ পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন