নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আবারও একযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। যাচাই শেষে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডার স্থান চিহ্নিত করে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগর ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ২৫৪ জনের মধ্যে কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং কারা কেবল আড্ডাস্থলে উপস্থিত ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই দফায় আটক ৮৭৮
এটি কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ের দ্বিতীয় দফার বড় অভিযান। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুই দফার অভিযানে মোট ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতিম হত্যার পর অভিযান জোরদার
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর।
পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে; তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণ উঠতি বয়সী তরুণদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে পুলিশ। প্রথম দফার অভিযানের পর এবার দ্বিতীয় দফায়ও জেলার সব থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হলো।
নগরে ৩৭ জন আটক
শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯), যাকে পুলিশ ওই গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন