আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ভারত মহাসাগরেও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসি। শনিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদি এ হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্য ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশ করেছে।
আলী মোহাম্মাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করলে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত মার্কিন নৌযানগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন জাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালানো হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে থাকা এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটি ঘিরে দুই দেশের সামরিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বেড়েছে।
ভারত মহাসাগরের প্রসঙ্গ কেন
ইরানের এই হুঁশিয়ারির আগে দেশটির সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভিও সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে চলমান সংঘাতের পরিধি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে; নতুন হামলা হলে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ভারত মহাসাগরেও মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সমুদ্রপথে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েন
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি অবশ্যই একটি সামরিক হুমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্য; এটি বাস্তবে হামলা সংঘটিত হওয়ার ঘোষণা নয়। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
✍️ মন্তব্য লিখুন