নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’—এমন বক্তব্য দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাঁর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা রিটটি দায়ের করেন।
রিটে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া দুটি প্রেস ব্রিফিংকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে এমন বক্তব্য দিয়ে গণমাধ্যমে প্রচার না করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির এক উপপরিচালক আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি-বাণিজ্যের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে জানিয়েছিলেন। পরে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি ভুলবশত বলা হয়েছিল এবং সংবাদ প্রচারের সময় তা বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রিটে আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই সেটির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরও ১৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ কয়েকটি অভিযোগের কথা বলা হয়।
রিটে ইতিমধ্যে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর দুদক জানিয়েছিল, আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে। পরে দুদকের সচিব বলেছিলেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমলযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোতে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাইয়ে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন।
এখন রিটের শুনানিতে আদালত কী আদেশ দেন, সেটিই পরবর্তী বিষয়। রিট দায়েরের মাধ্যমে দুদকের অনুসন্ধানের বৈধতা নয়, মূলত অনুসন্ধান চলাকালে সংস্থাটির প্রেস ব্রিফিং ও প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার আইনগত সীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন