বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘সন্ত্রাস রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটসংলগ্ন কদমতলায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানান।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বুটেক্সে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রশাসন প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের। একই সঙ্গে অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। তিনি ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে এসে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইহসান এলাহী সাবিক বলেন, আইন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হওয়া দুঃখজনক। বুটেক্সকে সন্ত্রাস, হল দখল ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানান তিনি।
সাত দফা দাবি
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো দাবিতে রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনের কথাও জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
পরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রদক্ষিণ করেন।
কী ঘটেছিল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ৬ আগস্ট বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুটেক্স ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁদের মারধর করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকরসহ সাত দফা দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে বলে আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতির মধ্যে বুটেক্স প্রশাসন ক্যাম্পাসে সভা, সমাবেশ ও জনসংযোগ নিষিদ্ধ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন